অপরাধ

৩ মাসে ২১২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রিং আইডি

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রিং আইডি কমিউনিটি জবস খাতে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে উপার্জনের কথা বলে জনগণের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

সিআইডি বলছে, কেবল কমিউনিটি জবস খাত থেকেই গত মে মাসে ২৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, জুন মাসে ১০৯ কোটি ১৩ লাখ ও জুলাই মাসে ৭৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা অ’বৈধভাবে সংগ্রহ করেছে রিং আইডি। তিন মাসে তারা হাতিয়ে নিয়েছে মোট ২১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

রিং আইডি যেন অ’বৈধভাবে দেশের টাকা বাইরে পাচার করতে না পারে সেজন্য ইতোমধ্যে তাদের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছে পু’লিশের অ’প’রাধ ত’দন্ত বিভাগ (সিআইডি)।শনিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে সিআইডির অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার (মিডিয়া) আজাদ রহমান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সিআইডির সাইবার পু’লিশ সেন্টার রিং আইডির অ’বৈধ কার্যক্রম স’ম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করে তিন মাসে ২১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তাদের এসব স’ন্দেহ’জনক কার্যক্রম লক্ষ্য করে বেশ কিছুদিন আগে সিআইডির সাইবার পু’লিশ সেন্টার থেকে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’কে (বিএফআইইউ) অনুসন্ধানের জন্য একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। বিএফআইইউ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া রিং আইডির ইস্যুতে সাইবার পু’লিশ সেন্টারে মানি লন্ডারিং বিষয়ে একটি অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান।

সিআইডির অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার আজাদ রহমান বলেন, রিং আইডি যেন অ’বৈধভাবে দেশের বাইরে টাকা পাচার করতে না পারে সে কারণে ইতোমধ্যে তাদের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানানো হয়েছেসিআইডির এ কর্মক’র্তা বলেন, রিং আইডি প্রাথমিকভাবে একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে তারা বিভিন্ন সার্ভিস যোগ করে জনগণের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করে।

এসব সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ, কমিউনিটি জবসসহ বিভিন্ন সার্ভিস, যার আড়ালে এ আমানত সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ জনগণ এ খাতে বিনিয়োগ করে। এর আগেও তাদের করো’নাকালীন ডোনেশনের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে স’ন্দেহ পোষণ করা হয়েছিল। বর্তমানে স’ন্দেহের তালিকায় থাকা বিভিন্ন ই-কমা’র্স সাইটের মতো তারাও অস্বাভাবিক ডিসকাউন্টে বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিক্রি ও ক্রেতাদের কাছ থেকে ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করছিল।

উল্লেখ্য, রিং আইডিতে বিনিয়োগ করে প্রতারিত একজন ভুক্তভোগী ভাটারা থা’নায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মা’মলা করেন। রিং আইডির ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অ’জ্ঞাত ১০-১৫ জনের বি’রুদ্ধে মা’মলা করেন ওই ভুক্তভোগী। সিডিউলভুক্ত হওয়ায় এ মা’মলা’টি সিআইডির সাইবার পু’লিশ সেন্টার ত’দন্ত কার্যক্রম শুরু করে। ত’দন্তের ধারাবাহিকতায় সাইবার পু’লিশ সেন্টার মা’মলার অন্যতম অ’ভিযু’ক্ত মো. সাইফুল ইস’লামকে গুলশান থা’না এলাকা থেকে গ্রে’ফতার করে সিআইডির একটি টিম।

তাকে আ’দালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রি’মান্ড আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান সিআইডির এই কর্মক’র্তা।

Back to top button