আলোচিত সংবাদ

খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জনিং’ করা হয়েছিল কি না, জানতে চান ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পুরোনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখার সময় স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল কিনা এমন প্রশ্ন তুলেছেন দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইস’লাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আম’রা এটা পরিষ্কার করে জানতে চাই।বৃহস্পতিবার(২৫নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত বি’ক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে এই বি’ক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রীর বয়স এখন ৭৫ এর ওপরে। সেই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এক/এগারোতে যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, সেই চক্রান্তের অংশ হিসেবে সম্পূর্ণ একটি মিথ্যা মা’মলায় সাজা দিয়ে কারাগারে আ’ট’ক করে রাখা হয়েছিল। আপনারা জানেন পুরোনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে একেবারে পরিত্যাক্ত ভবনে যেখানে ইঁদুর আর চিকা দৌড়াদৌড়ি করতো সেই স্যাঁতস্যাঁতে একটা ঘরে দুই বছর আ’ট’ক রাখা হয়েছিল। এরপরে তাকে পিজি হাসপাতা’লে নিয়ে আসা হয়েছিল কিন্তু কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, একটা কথা এখানে সালাম সাহেব বলেছেন, আজকে অনেকের মধ্যে এই প্রশ্ন এসেছে, সেদিন কি বেগম খালেদা জিয়াকে কোনো স্লো পয়জনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল? আম’রা একটা পরিষ্কার করে জানতে চাই। এদের পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়। যারা জো’র করে আগের রাতে ভোট ডা’কাতি করে ক্ষমতায় বসে থাকতে পারে। যারা অবলীলায় ৩৫ লাখ মানুষের বি’রুদ্ধে মিথ্যা মা’মলা করতে পারে। যারা অবলীলায় গণতন্ত্রকামী নেতাকর্মীদের গু’লি করে হ’ত্যা করতে পারে। যারা অবলীলায় আমাদের নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ ৫০০ নেতাকর্মীকে গু’ম করে দিতে পারে। তাদের পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই দেশটাকে আপনারা বিক্রি করে দিয়েছেন। এই দেশের যে গণতন্ত্রের জন্য যু’দ্ধ হয়েছিল, ল’ড়াই করে যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, সেই গণতন্ত্রকে পুরোপুরি নির্বাসনে পাঠিয়েছেন। তার প্রমাণ এখন পত্রিকায় দেখছি। আ’মেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেন গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একটা ভা’র্চ্যুয়াল সম্মেলন করতে যাচ্ছেন। সেখানে বাংলাদেশের নাম নাই। নেপাল, পা’কিস্তান, ভা’রতের নাম আছে কিন্তু বাংলাদেশের নাম নাই। ওই জায়গায় নিয়ে এসেছেন।

পত্রিকার সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, কয়েকদিন আগে খবরের কাগজে খবর বেড়িয়েছে যে বাংলাদেশের সড়ক, খাত, স্বাস্থ্য খাত, যোগাযোগ খাত, প্রতিরক্ষা, প্রশাসন খাত, সবগুলোতে দু’র্নীতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বলা হচ্ছে এটা এখন এক ঝুঁ’কির মুখে আছে। আজকে দেশে এমন কোনো জায়গা নাই, যেখানে দু’র্নীতি নাই।

তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য লাখ লাখ পু’লিশ নিয়োগ করা হচ্ছে। তাদের নিয়োগ করা হয় দলীয় ভিত্তিতে। একজন কনস্টবলকে ২০লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। সেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চরমভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী, কাউন্সিলর, তারা পরস্পরকে গু’লি করে হ’ত্যা করছে। কুমিল্লায় পরশুদিন একজন কাউন্সিলরকে ব্রাশ ফায়ার করে মে’রে দিয়েছে। এটা অ’ত্যন্ত অশনী সংকেত। কারণ আম’রা ৭২ থেকে ৭৫ সালে এই আওয়ামী লীগ আমলে ঈদের জামাতে প্রকাশ্যে ব্রাশ করে লোক মা’রতে দেখেছি। আম’রা দেখেছি রাস্তার ধারে গু’লি করে লোকে মে’রে ফেলে রাখা হতো। এখন একই কায়দায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু একটা জায়গায় তারা ব্যর্থ হয়নি। বিরোধী দলের যে ভোট দেওয়ার আ’ন্দোলন, গণতন্ত্র রক্ষার আ’ন্দোলন সেটা দমন করতে তারা খুব সিদ্ধহস্ত। এটাকে আমাদের পার করতে হবে, উত্তরণ ঘটাতে হবে, ওদের এই পারদর্শীতাকে পরাজিত করতে হবে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দরকার। একথা চিকিৎসকেরা বার বার বলছেন। তারা বলছেন আমাদের এখানে আর চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। কিন্তু হাসিনা শুনতে চায় না। তার মন্ত্রীরাও বলে দেওয়া উচিত, আওয়ামী লীগের এমপিরাও বলে এটা মানবিক কারণে দেওয়া উচিত। সারাদেশের সব মানুষ, ডাক্তার, উকিল, বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপকেরা বলছেন, কিন্তু তিনি এটা শুনতে চান না। কেন চান না, তার প্রতিহিং’সা। তার প্রতিশোধ। এই যে স্প্রীহা। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে শুধু নয়, এখন জীবন থেকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য এই চক্রান্ত।

তিনি বলেন, আম’রা জানি আন্তর্জাতিকভাবেও তার ওপরে চাপ আসছে চিকিৎসা করতে দেওয়ার জন্য। তিনি কথাই শুনছেন না। আমাদের বেঁচে থাকার লক্ষ্য হচ্ছে বেগম জিয়া। আমাদের রাজনীতির বাতিঘর হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া। এই নেত্রী হচ্ছেন সেই নেত্রী যিনি আমাদের সঙ্গে নিয়ে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া ছুটে বেড়িয়েছেন। সেখানেই তাদের ভ’য়, ভ’য়টা ওখানেই যে দেশনেত্রী যদি বাইরে থাকে তাহলে বাংলাদেশের মানুষকে আর ঘরে রাখা যাবে না।

তিনি বলেন, আজকে দেশনেত্রী হাসপাতা’লে তার জীবন নিয়ে ল’ড়াই করছেন। আম’রা কি ঘরে বসে থাকবো। আম’রা ঘরে বসে থাকবো না। আম’রা প্রা’ণপণ আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে তাকে মুক্ত করার জন্য অবশ্যই কাজ করবো।

বি’ক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার জন্য যুবদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সামনের দিনগু’লিতে আরও বেশি শক্তি নিয়ে বেড়িয়ে আসতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে। আর এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে দেশনেত্রীকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এই জনগণ আপনার বিচার করবে। জবাবদিহি করতে হবে। তখন আর কাউকে খুঁজে পাবেন না। পেছনের দরজাটাও খুঁজে পাবেন না।

যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকুর পরিচালনায় বি’ক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমান উল্লাহ আমান, মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক আবদুস সালাম, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইস’লাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভা’রপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, সহসভাপতি আব্দুল খালেক, সাইফুল ইস’লাম ফিরোজ, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক নুরুল ইস’লাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক শফিকুল ইস’লাম মিল্টন, সদস্য সচিব মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল, দক্ষিণের আহ্বায়ক গো’লাম মা’ওলা শাহিন, সদস্য সচিব এনামুল হক এনাম, উত্তরের সাবেক সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান প্রমুখ।

Back to top button