আলোচিত সংবাদ

নায়ক ফারুকের চিকিৎসায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট বিক্রি

বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের মিয়া ভাইখ্যাত অভিনেতা আকবর হোসেন পাঠান ফারুক দশ মাসের বেশি সময় ধরে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঢাকার এই সংসদ সদস্যের শারীরিক অবস্থার কখনও উন্নতি, আবার কখনও অবনতি হয়েছে কয়েক মাস ধরে। ছিল নানা শঙ্কাও। তবে কখনও হাল ছাড়েননি তার পরিবারের সদস্যরা। এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা।জানা যায়, ফারুকের চিকিৎসার জন্য এরই মধ্যে বিক্রি করতে হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট। ব্যাংক অ্যাকাউন্টও শূন্য হয়েছে। পাশাপাশি স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করতে হয়েছে।

দেশের জনপ্রিয় এই অভিনেতা চার মাস ছিলেন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)। সেমি কোমায় কেটেছে আরও চার মাস। মাঝে শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে তাকে লাইফ সাপোর্টেও রাখা হয়েছিল। সে সময় মৃত্যুর গুজবও রটেছিল!এদিকে ফারুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্ত্রী ফারহানা ফারুক বলেন, ‘ফারুকের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। এখন নিজের পছন্দের সব ধরনের খাবার খেতে পারছেন। রক্তচাপ ও মস্তিস্কে যে সমস্যা ছিল, তাও এখন নিয়ন্ত্রণে। স্নায়ুতন্ত্রে নতুন কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে, যা আগে ছিল না। চিকিৎসকরা বলেছেন, এর চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। তাই ধৈর্য ধরে চিকিৎসা চালাতে হবে।’

তবে ফারুক কবে নাগাদ পুরোপুরি সুস্থ হবেন তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারছেন না চিকিৎসকরা। তবে ফারহানা আশাবাদী, দ্রুতই সুস্থ হবেন। তিনি বলেন, ‘কাজপাগল মানুষটি কাজ করতে চায়। সংসদীয় এলাকার অনেক কাজকর্ম জমা পড়ে আছে। আশা করছি, দেশে ফিরেই কাজগুলো করবেন। তার জন্য দোয়া করবেন সবাই।’কীভাবে সময় কাটছে ফারুকের জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইবাদত বন্দেগি করছেন। আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়ে চোখের পানি ফেলেন। সারাক্ষণই চিকিৎসকরা কেবিনে আসা-যাওয়া করছেন। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। দুই সন্তানকে ঢাকায় রেখে এক বছর ধরে একাই হাসপাতালে আছি। সন্তানদের জন্য সবসময় ফারুকের মনটা অস্থির থাকে। ভিসা জটিলতায় সন্তানরা তার বাবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারছে না। টুরিস্ট ভিসা পেলেও একটু দেখে যেতে পারত। সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।’

এ সময় ফারহানা জানান, ‘সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথে চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল, যেজন্য সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে। সন্তানরা দেশে থেকে তার বাবার জন্য টাকা পাঠাচ্ছে। সহায়-সম্পত্তি সব চলে গেলেও আফসোস নেই। আপনাদের মিয়া ভাই দ্রুত সুস্থ হয়ে সবার মাঝে ফিরে আসুক, এটাই একমাত্র চাওয়া। ফারুক তো আমার একার নয়, পুরো বাংলাদেশের। দেশে সবাই তার অপেক্ষায় আছেন।’এ সময় ফারুকের একমাত্র ছেলে রওশন হোসেন পাঠান শরৎ বলেন, ‘দীর্ঘদিন আব্বু সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে বারিধারার দুটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেছি। সেখানে আমরা থাকিনি। এর আগেই বিক্রি করতে হলো। আব্বু হাসপাতালে বেশিদিন থাকলে আরও টাকা লাগতে পারে। স্বজনদের কাছ থেকেও দেনা করেছি। আব্বুর সুস্থতার জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব। সরকারও সহযোগিতা করেছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। যেটুকু সহযোগিতা পেয়েছি, তাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। বিপদের সময় তিনি আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।’

এ সময় শরৎ আরও বলেন, ‘আব্বুর সঙ্গে মাঝে মাঝে যোগাযোগ হয়। তিনি আমাদের দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেছেন। তার রোগমুক্তির জন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চাচ্ছি।’জানা যায়, ফারুকের বাবার নাম আজগর হোসেন। ৬ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবচেয়ে ছোট। ফারুক ভালোবেসে বিয়ে করেন ফারহানাকে। তাদের সন্তান ফারিহা তাবাসসুম পাঠান তুলশী ও রওশন হোসেন পাঠান শরৎ। স্কুলজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন ফারুক। যোগ দেন ছয় দফা আন্দোলনে। অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে। ২০১৮ সালে ঢাকা-১৭ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন ফারুক।

Related Articles

Back to top button