আলোচিত সংবাদ

কথা বলতে দিন, তা না হলে সংসদে থাকব কেন?: হারুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভাসহ দেশের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদ।সোমবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি এ দাবি করেন তিনি।

এ সময় সরকার দলীয় এমপিরা তার বক্তব্যে বাঁধা দিতে থাকেন। হারুন বলেন, স্পিকার কথা বলার সময় দিয়েছেন। এতো অধৈর্য হচ্ছেন কেন? কথা বলতে দিন, তা না হলে সংসদে থাকব কেন?এরপর বক্তব্য দিয়ে তিনি সংসদ থেকে তিনি বেরিয়ে যান।

সে সময় সংসদে ব্যাপক হৈ হট্টগোল হতেই থাকে, স্পিকার তাকে বক্তব্য শেষ করার আনুরোধ জানাতে থাকেন।হারুন তার বক্তব্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, এখানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে আইনের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। সেখানে তিনি একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ চার জন নির্বাচন কমিশনার থাকবেন।এর বাইরেও, ইভিএমে তার পৌরসভায় দুর্নীতি হয়েছে অভিযোগ করে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে

এটি তদন্ত করে যারা ভোট কারচুপির সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তির দাবি জানান।নির্বাচন কমিশন সংবিধান সম্মতভাবে গঠন করার দাবি জানিয়ে এবং কুরআনের আয়াত উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সত্যের সঙ্গে মিথ্যাকে না মেলাতে। একটা নিরপেক্ষ ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতিকে আহ্বান জানান তিনি।হারুনুর রশীদ বলেন,

‘গত ৩০ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৫ নভেম্বর আমাদের ইউপি নির্বাচনগুলো হয়েছে। আমি গত অধিবেশনে আবেদন করেছিলাম, অন্তত পক্ষে আমার জনগণ যাতে ভোট দিতে পারেন। এটার নিশ্চয়তা চেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছিলাম।’তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় ভোটের দিন ৫০ জন সাংবাদিকের সামনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। সেই দিন কোনো নির্বাচন হয়নি।’হারুন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে জনগণের আগ্রহ ও উৎসাহ একেবারেই নেই। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তিনবছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন।

সেখানে সুস্পষ্ট বলেছিলেন- দুর্নীতিবাজ যেই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না। এটা সুর্নিদিষ্টভাবে বলেছিলেন। দুর্নীতির সংজ্ঞা হচ্ছে- অসাদুপায় অবলম্বন করা। আপনি অসাদুপায় অবলম্বন করে নির্বাচন করেন, নির্বাচিত হোন। অসাদুপায় অবলম্বন করে নিয়োগ পান, ভর্তি হন কিংবা যেকোনো জায়গায় কর্ম বাস্তবায়ন করেন। এটা আমাদের ইসলাম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’ এ সময় সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।পরে তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করবো- আমার নির্বাচনী এলাকায় যে পৌর নির্বাচন হয়েছে, তাতে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কিনা? এটি আমার দাবি। না হলে কেন আমরা সংসদে থাকবো? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন মন্ত্রী, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন কথা দিয়েছিলো। তারপরও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।’

Related Articles

Back to top button