খেলাধুলা

চুল কা’টা থেকে ছে’লেদের পোশাক, পা’কিস্তানে নারীদের ক্রিকেট খেলতে যা যা করতে হয়

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার ইচ্ছে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন বিসমা আমজাদ। সেই স্বপ্ন পূরণেও বেশ আশাবাদী পা’কিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া এই মে’য়ে। তবে ক্রিকেট খেলার জন্য বেশ ল’ড়াই করতে হয়েছে বিসমাকে।

যখন করো’না মহামা’রি শুরু হলো, মে’য়ে হওয়ার কারণে ক্রিকেট খেলাটা বেশ ক’ষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিল তার। কোথাও অনুশীলনও করতে পারছিলেন না। কিন্তু কথায় তো আছে, ‘ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়’, তার জ্বলন্ত উদাহারণ বিসমা। পুরুষদের পোশাক পরে ছে’লেদের সঙ্গে ‘গলির ক্রিকেট’ খেলতে লাগলেন তিনি।

মহামা’রিতেও রাস্তায় রাস্তায় ক্রিকেট খেলেছে ছে’লেরা। ছদ্মবেশে তাদের সঙ্গে খেলেছেন বিসমা। আশ্চর্য হওয়ার মতো এমন কথায় জানালেন তিনি দ্য গার্ডিয়ান’কে, ‘মহামা’রির সময়েও ছে’লেরা ‘গালি-ক্রিকেট’ খেলত। কিন্তু মে’য়েদের জন্য রাস্তায় ক্রিকেট খেলা ছিল নিষিদ্ধ। তাই আম’রা খেলতে পারতাম না। আমা’র কোনো কিছু করার ছিল না। তাই পুরুষদের পোশাক পরে তাদের সঙ্গে অনুশীলন করতাম।’

বিসমা আমজাদ ২০২১ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের জন্য দলে জায়গা পান। কিন্তু মহামা’রির কারণে এই আসর স্থগিত হয়ে যায়। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার ইচ্ছে নিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন ১৯ বছর বয়সী এই বোলার। নারীরা এখন ক্রিকে’টে আর তেমন পিছিয়ে নেই। তবে ব্যাট-বলের এই খেলা চালিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন এশিয়ান রাষ্ট্রগুলোতে। বিসমাকেও তার ভেতর দিয়ে যেতে হয় প্রতিনিয়ত।

করাচিতে বেশ কয়েকবার তাকে শুনতে হয়েছে, ‘তোমা’র চামড়া কালো হয়ে যাচ্ছে’, ‘এটা ছে’লেদের খেলা, তুমি সময় অ’পচয় করছো’ বা ‘এমন একটা কোর্স করো যা তোমা’র বিয়ের পরে সাহায্য করবে’, এমন সব মন্তব্য। তবে এসব তিক্ত কথা শুনেও ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চান বিসমা।

কেবল বিসমাকে নয়, পা’কিস্তানে এমন অসংখ্য নারীকে প্রতিনিয়ত ল’ড়াই করতে হয় ক্রিকেট খেলার জন্য। গার্ডিয়ানকে তিনি এমন এক গল্পও শোনালেন, ‘আমা’র এক বন্ধু ক্রিকেট খেলার জন্য তার চুল কে’টে ফেলেছিল। যাতে সে যে মে’য়ে তা যাতে অন্যরা না জানে।’

Back to top button