আলোচিত সংবাদ

আলোচিত শিক্ষিকা খায়রুন নাহারের মৃত্যুর কারণ কি ডিপ্রেশন?

মো.মামুন হোসেনের বয়স ২২ বছর। এখনো কলেজছাত্র তিনি। বছরখানেক আগে ফেসবুকে পরিচয় হয় অন্য এক কলেজের শিক্ষিকার সঙ্গে। এরপর তাদের সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে।

সেই প্রেম পূর্ণতা পায় বিয়েতে। ছয় মাস আগে গোপনে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পর বেশ ভালোই চলছিল ছাত্র মামুন ও নাটোরের কলেজ শিক্ষিকা খাইরুন নাহারের সংসার। তবে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর তারা বিয়ে করলেও চলতি বছরের ৩১

জুলাই তাদের বিয়ের বিষয়টি সামজিকমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তখন সারা দেশেই তাদের বয়সের পার্থক্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।রোববার (১৪ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে বিয়ের ঠিক দেড় মাসের মাথায় একটি ভাড়া বাসা থেকে ওই শিক্ষকার

মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শহরের বলারিপাড়া এলাকা থেকে খাইরুন নাহারের লাশটি উদ্ধার করা হয়। গণমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বলছেন, তাকে হত্যা করা হয়েছে। আবার অনেকেই বলছেন, তিনি ডিপ্রেশন (মানসিক অস্থিরতা) থেকে আত্মহত্যা করেছেন।

তরিকুল ফাহিম নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মন্তব্য কি তাহলে গন্তব্য ঠেকিয়ে দিল? বয়সের ব্যবধানই কি তাহলে কাল হলো? ধিক্কার এই নষ্ট সমাজকে। বয়সের পার্থক্যের কারণে সমাজের সমালোচনা আর কটূক্তি তাকে ডিপ্রেশনে নিয়ে যায়; যার শেষ পরিণতি ‌‘আত্মহত্যা’।সাবিহার ইসলাম সিনহা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লিখেছেন, ‘আমি অনেককেই দেখেছি যারা এই শিক্ষিকাকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেছে, তারা নিজেরাই অনেকে হারাম সম্পর্কে জড়িত। যেসব মানুষ এই শিক্ষিকাকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেছেন, যার ফলে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সবাই এর জন্য দায়ী। কতটুকু ডিপ্রেশনে থাকলে মানুষ এই সিদ্ধান্ত নেয়।’

এদিকে এ বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) লিটন কুমার সাহা বলেছেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আপনারা জানেন, সামাজিকমাধ্যমে এটি একটি বহুল আলোচিত-সমালোচিত ঘটনা। মানসিক চাপের কারণে এটি আত্মহত্যা কি না, আমরা তদন্ত করছি।উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর কাজি অফিসে গিয়ে দুজন গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর সম্প্রতি বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। শিক্ষিকা মোছা. খাইরুন নাহার গুরুদাসপুরের খুবজিপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং মামুন নাটোর এন এস সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

Related Articles

Back to top button