আলোচিত সংবাদ

প্রেমিকের সঙ্গে ছিল মামা-ভাগনির সম্পর্ক, তদন্ত করতে গিয়ে বিস্মিত পুলিশ

রংপুরের কাউনিয়ায় স্কুলছাত্রীর কি’লিং মি’শনে অংশ নিয়েছিল তিন প্রেমিক। কিন্তু এখনো তৃতীয় প্রেমিকের স’ন্ধান মেলেনি। এ হ’ত্যাকা’ণ্ডের তদ’ন্তে গিয়ে পুলিশও বি’স্মিত। বছরখানেক আগে দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখতে চলা একটি ছেলের প্রেমের সম্প’র্ক প্রকাশ পেয়েছিল। ওই সময় বি’ব্রতকর পরি’স্থিতিতে পড়েন তাদের স্বজনরা। আত্মীয়তার স’ম্পর্কই মূলত তাদের বা’ধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ছেলের এমন কর্মকা’ণ্ডে বাবা জানান, বছরখানেক আগে একজন পদস্থ কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় নিজেদের সন্তানদের সামলা’নোর মৌখিক সমঝো’তা করেছিলেন দুই পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু শেষের দিকে মেয়েটি নিজের মা-বাবার ফোন থেকে তার ছেলের সঙ্গে কথা বলতো। ছেলেটির বাবা জানান, বড় ভাইয়ের মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সম্প’র্কের সূত্রে তাকে ভাইয়া বলেই ডাকতো মেয়েটি। আত্মীয়তার সূত্রে ছেলের সঙ্গে মামা-ভাগ’নির সম্প’র্ক।

পাশেই তার বড় ভাইয়ের বাড়ি। প্রায়ই ওই বাড়িতে বেড়াতে আসতো মেয়েটি। ওই বাড়ির ট’য়লেট ভালো না হওয়ায় তার বাড়িতে এসে গো’সল করতো। ছেলের মা বলেন, মেয়েটাকে আ’দর করতাম, খাওয়াতাম। একবারের জন্যও এ পরিণতি হবে বুঝতে পারলে সাব’ধান হতাম। নিজের ছেলের সঙ্গে এভাবে সম্পর্কে জ’ড়িয়ে খু’ন হবে, নিজের সন্তানই তাকে খু’ন করবে, বিশ্বাস করতে পারছি না।

প্রতিবেশীরা জানান, মেয়েটি সবার সঙ্গে ভালো আ’চরণ করতো। বেশির ভাগ সময় ঘরেই থাকতো। বড়জোর রা’স্তায় যেত। কখনো কেউ খারা’প কিছু দেখেনি। রংপুর শহরের নাম করা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাসের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঘটনার পরদিন ১৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য চট্টগ্রামে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগের দিনই নৃ’শং’স এ ঘটনা ঘটে।

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ছেলের বাবা বলেন, পরদিন ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যে চার বন্ধু চট্টগ্রাম যাওয়ার কথা ছিল, তাদের সঙ্গে বেড়াতে যাবে বলে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় আমার ছে’লেটি। তিনি বলেন, ওই দিন রাতে ছেলে ডান হাতের তিনটি আঙু’ল অনেকখানি কা’টা অবস্থায় বাসায় আসে। টিনে লে’গে হাত কে’টেছে বলে জানিয়েছিল সে। কিন্তু স’ন্দেহ হয়েছিল আমার। বাড়িতে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা দিয়েছিলাম।

তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে বাড়িতে পুলিশ এলে ছেলেকে তুলে দেই। এ ঘটনায় আমার ছেলে হয়তো পরিস্থি’তির শি’কার। মেয়েটিকে খু’ন করতে আমার ছেলেকে কেউ বা’ধ্য করেছে। তবে পুলিশের কাছে নিজ হাতে প্রথমে স্কুলছাত্রীকে ধা’রা’লো অ’স্ত্র দিয়ে আ’ঘা’তের কথা স্বী’কার করেছে প্রধান অভিযুক্ত স্কুলছাত্রীর সাবেক এ প্রেমিক। পুলিশকে সে জানায়, তিনজন মিলে মেয়েটিকে এ’লোপাতা’ড়ি ছু’রিকাঘা’তের সময় তার হাতে থাকা ছু’রিটি ভে’ঙে যায়। মূলত এ সময় তার হাত কে’টে যায়।

পুলিশ কি’লিং মিশনে অংশ নেয়া আরো দুজনের নাম পায় এ প্রেমিকের কাছ থেকে। বাকি দুজনকে মেয়েটির কথিত প্রেমিক উল্লেখ করছে পুলিশ। প্রেমে প্রতারিত হয়ে পরিক’ল্পিতভাবে তিনজন মিলে মেয়েটিকে খুনের কথা সে স্বীকার করলে বুধবার এক চিকিৎসকের ছেলেকে গ্রে’ফতার করে পুলিশ। প্রথমে গ্রেফতার হওয়া ছেলেটি ঘটনার দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে জবা’নব’ন্দি দিয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকের ছেলে অপরা’ধের কথা স্বী’কার করে কোনো জবানব’ন্দি দেয়নি। ফলে তিনজনই প্রেমে প্রতারিত হয়ে এ হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘটিয়েছে বলে দা’বি পুলিশের।

বুধ ও বৃহস্পতিবার যথাক্রমে দুই আসামিকে আ’দালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে তাদের কা’রাগারে পাঠায় আদালত। দুই আসা’মিকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্র’কৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে ধারণা অনেকের। তবে পুরো ঘটনা উন্মোচন করতে হলে ঘটনা’য় জ’ড়িত তৃতীয়জনকে প্রয়োজন। তাকে খুঁজতে ম’রিয়া অভি’যান চালাচ্ছে পুলিশ।

Related Articles

Back to top button