আলোচিত সংবাদ

গর্ভপাতে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু, চার লাখ টাকায় মীমাংসার চেষ্টা

ফরিদপুর শহরের আলীপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন ভিজিটর গোপনে গর্ভপাত করার একদিনের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা চার লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রভাবশালীরা।

অন্তঃসত্ত্বার ওই নারী সালথা উপজেলার কানাইড় গ্রামের কৃষক আজিজুল শেখের স্ত্রী। তিনি তিন মেয়ের মা ছিলেন।নিহতের বড় মেয়ে রিক্তা আকতার জানান, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বার তার মা ৪০ বছর বয়সে আবার সন্তান জন্ম নেওয়া নিয়ে লজ্জিত ছিলেন।

এ অবস্থায় সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিজিটর রোকেয়া বেগমের শরণাপন্ন হন তিনি। পাঁচ হাজার টাকা চুক্তিতে তার গর্ভপাত করার চুক্তি করেন। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে তার মাকে ফরিদপুর শহরের আলীপুরে রোকেয়ার বাসায় নিয়ে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এতে তার ব্যাথা ওঠে। ব্যাথা ওঠার পর তার মা ছটফট করতে থাকেন। তখন রোকেয়া বলেন,

সমস্যা নেই বাচ্চা গর্ভপাত হয়ে যাবে। কিন্তু ওষুধে গর্ভপাত না হওয়ায় ওই রাতে মায়ের শরীরে অস্ত্রোপচার করেন রোকেয়া বেগম। এরপর অবস্থার আরও অবনতি হয়। রোকেয়া আরও পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্যথায় ফরিদপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন তার মাকে। পরেরদিন শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে তবে তার মাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসা শুরুর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনা জানাজানি হলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা শুরু হয়। স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারস্থ হয়ে সোমবার রাতে ফরিদপুরের একটি শ্রমিক ইউনিয়নের অফিসে এ ব্যাপারে সালিশ-মীমাংসা ডাকা হয়। ওই সালিশে উপস্থিত হন নিহতের মেয়ে রিক্তা আকতারও। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মায়ের মৃত্যুর এ ঘটনা নিয়ে সালিশ করতে রাজি হইনি। কিন্তু প্রভাবশালীদের চাপে সেখানে যেতে বাধ্য হই। সালিশেও মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার চাই। পরে উপস্থিত সকলের অনুরোধে আমার তিন বছরের একটি ছোট বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নিই।’তিনি জানান, ওই সালিশে ভিজিটর রোকেয়া গর্ভপাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বীকার করে।

সালিশে উপস্থিত সালথার গট্টি ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ফরিদপুর পৌরসভার একজন কাউন্সিলর ও শ্রমিক নেতা, স্থানীয় ইউপি সদস্য পারভেজ মাতুব্বর, সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস মোল্যাসহ স্থানীয় মাতুব্বরদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। সালিশে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে রোকেয়া বেগমকে। তবে এখনও ওই টাকা পরিশোধ করা হয়নি। আগামী সোমবার টাকা দেওয়া হবে।’বিষয়টি জানতে ভিজিটর রোকেয়া বেগমের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।সালথা উপজেলা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদা পারভিন এটিকে দু:খজনক ঘটনা উল্লেখ করে বলেন। তিনি বলেন, রোকেয়া শনিবার সকালে দুই দিনের ছুটি নিয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি সালথার বাইরের তাই আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না।

গট্টি ইউপির ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য পারভেজ মাতুব্বার বলেন, ‘বিষয়টি কিছু নেতা মীমাংসা করার কথা বলে রোকেয়ার কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে শুনেছি। রোকেয়া তার বাসায় এমন অসংখ্য গর্ভপাত ঘটিয়ে আসছে। এসব ঘটনায় আমি ভিজিটর রোকেয়ার শাস্তি দাবি করছি।’ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) বলেন, ‘রেহানা বেগম নামে ওই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে কি-না তা আমার জানা নেই। তবে এ ঘটনায় তার পরিবার থানায় একটি জিডি করেছেন। লাশ ময়না তদন্ত করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Related Articles

Back to top button