লাইফস্টাইল

প্রথম সহবাসে রক্তপাত হয়নি বলে ‘মরিয়ম’ কুমারী নয়!

বিয়ের আগে পুরুষরা কখনও কখনও কুমারীত্বের প্রমাণপত্র চায়। এজন্য ইরানে বিয়ের আগে কুমারীত্ব পরীক্ষা করা হয়। এটা অনেক নারী ও তাদের পরিবারের জন্য বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিষয়টিকে মানবাধিকারের লংঘন বলছে।

সংস্থাটির মতে, কুমারীত্ব পরীক্ষার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই। তবে কুমারীত্ব পরীক্ষার বিরুদ্ধে ইরানী নারী-পুরুষ এখন বেশ সরব।
মরিয়মের অভিজ্ঞতা ভয়াবহ!

বিয়ের পর প্রথম সহবাসের সময় রক্তপাত হয়নি বলে মরিয়ম নামে এক নারীর স্বামী তাকে বলেন, ‘তুমি তো কুমারী নও। তোমাকে বিয়ে করে আমি রীতিমতো প্রতারিত হয়েছি। আসল সত্য জানলে কেউ তোমাকে বিয়ে করতো না। ’ কিন্তু মরিয়ম তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন যে, রক্তপাত না হলেও সে এর আগে কখনও অন্য পুরুষের সঙ্গে সহবাস করেনি। কিন্তু তার স্বামী এসব কথা বিশ্বাস করেনি। কুমারীত্ব প্রমাণে একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট দিতে বলেন মরিয়মকে।সংসার টেকাতে বাধ্য হয়ে কষ্টকর মেডিকেল পরীক্ষা দিয়ে সার্টিফিকেট বা প্রমাণপত্র আনেন মরিয়ম। তাতে লেখা থাকে, তার হাইমেনের ধরণ ‘ইলাস্টিক’। এর মানে হল, যৌনাঙ্গে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করালে বা সেক্সের পর রক্তপাত নাও হতে পারে

মরিয়ম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ’এই ঘটনা আমার সতিত্বকে আঘাত করেছে। আমি কোনো ভুল করিনি কিন্তু আমার স্বামী আমাকে অপমান করেছেন। আমি আর নিতে পারছিলাম না বলে কিছু ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম’। ঠিক সময়ে হাসপাতালে নেওয়ায় ওই যাত্রা বেঁচে গিয়েছিলেন মরিয়ম। তবে নানা টেনশনে ওই সময় তার ওজন ২০ কেজির মতো কমে গিয়েছিলো ।

মরিয়মের গল্প ইরানের অনেক নারীর বাস্তবতা। বিয়ের আগে কুমারী হওয়া এখনও অনেক নারী এবং তাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই কঠিন নিয়ম কঠিন সাংস্কৃতিক রক্ষণশীলতার মধ্যে নিহিত। এই ধারণাটি ইরানের সংস্কৃতির মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত হওয়ায় অনেকে বিশ্বাস করেন যে, সরকার এবং আইন প্রণেতাদের দ্বারা এই নিয়মের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই অবশ্যসম্ভাবী।

বিবাহবিচ্ছেদ হয় মরিয়মের
চার বছর নিজের জীবন বিষিয়ে স্বামীর সাথে অপমানজনক বসবাস করার পর অবশেষে আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ পেতে সক্ষম হন মরিয়ম। এখন তিনি আবার অবিবাহিত হয়েছেন। মরিয়ম বলেন, ‘অন্য কোন পুরুষকে আবার বিশ্বাস করা আমার জন্য খুব কঠিন হবে। তাই আমি অদূর ভবিষ্যতে বিয়ে করতে চাই না’।

এখন হাজার হাজার অন্যান্য নারীর সাথে, কুমারীত্ব প্রমাণপত্র প্রদান বন্ধ করার জন্য অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন মরিয়ম। তিনি বলেন, শিগগিরই অথবা আমার জীবদ্দশায়ও এমন পরিবর্তন হবে এটা আশা করি না, তবুও আমি নিশ্চিত এবং বিশ্বাস করি, একদিন নারীরা এদেশে আরও সমতা অর্জন করবে। আশা করি, ভবিষ্যতে কোন নারীকে আমি যা করেছি তার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। ’

ধারণা পরিবর্তন হতে শুরু করেছে
ইরানে এসব ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। এমনকি ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, তুরস্ক সহ বেশ কয়েকটি দেশে এখনও নারীদের সতীত্ব প্রমাণে কঠিন মেডিকেল পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। বাগদানের পরও অনেক নারী চিকিৎসকের কাছে যান এবং একটি বেদনাদায়ক মেডিকেল পরীক্ষায় প্রমাণ হয় যে, তারা কখনই যৌনমিলন করেনি।

সম্প্রতি অবশ্য ধারণা পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। পুরো ইরান জুড়ে নারী ও পুরুষরা কুমারীত্ব পরীক্ষা বন্ধ করার প্রচারণা চালাচ্ছেন এখন। এ সংক্রান্ত একটি অনলাইন পিটিশনে এক মাসের মধ্যে প্রায় পচিশ হাজার স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানে এই প্রথম কুমারীত্ব পরীক্ষাকে এত বেশি মানুষ প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেছেন। আশা, একদিন পরিবর্তন হবে, এই ভুল প্রথায় বলি হবে না কোন নারী।

সূত্র : বিবিসি

Related Articles

Back to top button