লাইফস্টাইল

দাঁত ক্ষয় ও মাড়ির ইনফেকশন প্রতিরোধে আখের রস

এই গরমের মধ্যে যদি এক গ্লাস আখের রস হাতের কাছে পাওয়া যায়, তার চেয়ে আনন্দের হয়তো আর কিছুই হতে পারে না।
আম’রা অনেকেই হয়তো জানিনা যে আখের রস আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা উপকারী। আখের রসে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, উপকারি অ্যামাইনো অ্যাসিড, জিঙ্ক, থিয়ামিন এবং রাইবোফ্লেবিন।

যা শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে স্ট্রেসের কারণে শরীরের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশ’ঙ্কা তো থাকেই না, সেই সঙ্গে আরও একাধিক শারীরিক উপকার পাওয়া যায়। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক আখের রসের উপকারিতা স’ম্পর্কে-

> আখের রসে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্লুকোজ, যা মুহূর্তেই মানব দেহ রিহাইড্রেট করে চাঙ্গা করে তোলে।

> অনেক সময়ই ডাক্তার জন্ডিস রোগীদের আখের রস পান করার পরাম’র্শ দেন। কারণ আখের রসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সংক্রমণের বি’রুদ্ধে যু’দ্ধ করে ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে, লিভা’র সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

> আখের রস শরীরে প্রোটিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং এটি কিডনির ভালো রাখতে সাহায্য করে।

> আখের রসে থাকা আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড সুস্থ ত্বকের জন্য উপকারী। এটি ব্রণ কমাতে, ত্বকের বয়স বাড়া ঠেকাতে এবং ত্বকে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

> গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে একেবারে তলার দিকে থাকার কারণে আখের রস খেলে র’ক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার কোনো আশ’ঙ্কা থাকে না। বরং এই প্রকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করলে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে।

> আখের রসের প্রাকৃতিক অ্যাল্কালাইন অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে যা দাঁতের ক্ষয় বা মাড়ির ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও আখের রস মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেও বিশেষভাবে সহায়ক।

> প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম থাকার কারণে নিয়মিত আখের রস খেলে হাড় শক্তপোক্ত তো হয়ই, সেই সঙ্গে দাঁতের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে ক্যাভিটি এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার আশ’ঙ্কাও দূর হয়।

> আখের রসে থাকা ফলিক অ্যাসিড মায়ের শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে প্রেগন্যান্সি সংক্রান্ত একাধিক সমস্যা দূরে থাকতে বাধ্য হয়। সেই সঙ্গে বাচ্চার শারীরিক উন্নতি ঘটতেও সময় লাগে না।

তবে যা মনে রাখতে হবে:

> রাস্তার পাশের আখের রস স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়, কারণ এতে জীবাণু রয়েছে। আপনি আখের রস পান না করে আখ খাওয়ার অভ্যাস করলেও একই ফলাফল পাবেন। বাসায় আখের রস তৈরি করে নিন।

> অ’তিরিক্ত আখের রস পান করা স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক। দিনে এক গ্লাস আখের রসই যথেষ্ট।

Back to top button