অন্যান্য

তুচ্ছ বিষয়ে বছরজুড়ে নি’র্যা’তন, শেষমেষ চোখ উপড়ে ঘাড় ভেঙে শি’শুকে হ’ত্যা

সিলেটের বিশ্বনাথে গরুর পা কা’টার সাক্ষ্য দেয়ায় দুই চোখ উপড়ে ঘাড় ভেঙে রবিউল ইস’লাম নামে এক শি’শুকে হ’ত্যা করা হয়েছে। হ’ত্যার সময় শি’শুটির শরীরের একাধিক স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকাও দেয়া হয়।

নি’হত রবিউল ইস’লাম উপজে’লার রামপাশা ইউপির রহমাননগর গ্রামের আকবর আলীর ছে’লে ও স্থানীয় লতিফিয়া ইরশাদিয়া দাখিল মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।

শনিবার সকালে কা’ন্নাজ’ড়িত কণ্ঠে খু’নিদের নিষ্ঠুরতার বর্ণনা দেন রবিউলের বাবা মো. আকবর আলী। এ সময় তিনি বর্বর এ খু’নিদের অবিলম্বে গ্রে’ফতার ও জ’ড়িতদের ফাঁ’সির দাবি জানান।

শি’শুটির বাবা মো. আকবর আলী বলেন, ১২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় গাংগের পাড় এলাকায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রবিউল। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এছাড়া ওই রাতেই বিশ্বনাথ থা’নায় জিডি করেন রবিউলের মামা শওকত আলী।

তিনি বলেন, নি’খোঁজের পরদিন ১৩ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে রামপাশা-বৈরাগীবাজার সড়কের বাল্লার ব্রিজের সেতুর একটি ডোবায় রবিউলের লা’শ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পু’লিশ লা’শটি উ’দ্ধার করে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ম’র্গে পাঠায়।

স্থানীয়রা জানায়, বছরখানেক আগে করপাড়া গ্রামের ছাদিকুর রহমান ও আব্দুল কাদিরের ধানক্ষেতে চলে যায় গোয়াহরি গ্রামের আব্দুল হামিদের গরু। এ সময় ছাদিকুর রহমান ও আব্দুল কাদির গরুকে ধরে পা কে’টে দেন। বিষয়টি দেখেছিল রবিউল ইস’লাম। সাক্ষী হিসেবে সে এক সালিশ বৈঠকে বিষয়টি জানায়। এরপর থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায় সময় রাস্তায় পেয়ে রবিউল ইস’লামকে মা’রধর করতেন ছাদিকুর রহমান।

৭ অক্টোবর মুরিকোনা হাওরে গরুর ঘাস কাটতে যায় রবিউল। ওই সময় তাকে মা’রধর করেন ছাদিকুর রহমান। এ নিয়ে ৮ অক্টোবর রহমাননগর গ্রামের গণি মিয়ার বাড়িতে আরেকটি সালিশ বৈঠক হয়। ওই দিন বৈঠক শেষে রবিউলকে দেখে নেয়ার হু’মকি দিয়ে ছাদিকুর রহমান চলে যান। হু’মকি দেয়ার মাত্র তিনদিনের মা’থায় রবিউল খু’ন হয়।

এ ঘটনায় ১৩ অক্টোবর ছাদিকুর রহমান ও আব্দুল কাদিরসহ তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরো তিন-চারজনকে অ’জ্ঞাত হিসেবে বিশ্বনাথ থা’নায় হ’ত্যা মা’মলা করেন নি’হতের বাবা আকবর আলী। ওই দিন বিকেলে মা’মলার আ’সামি উপজে’লার করপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদিরের স্ত্রী’ মাজেদা বেগমকে গ্রে’ফতার করে পু’লিশ।

বিশ্বনাথ থা’নার ওসি শামীম মু’সা বলেন, এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত আ’সামি মাজেদা বেগমকে গ্রে’ফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রে’ফতারে অ’ভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Back to top button