আন্তর্জাতিক

৪ বছরে ৩০ হাজারের বেশি মিথ্যা বলেছেন ট্রা’ম্প

যু’ক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জো বাইডেন। অ’পরদিকে হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নিয়েছেন সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা’ম্প। তবে হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নিলেও ট্রা’ম্পের নাম এখনও মুছে যায়নি। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার নাম উঠেছে আসছে। যদিও বেশিরভাগই বিতর্কিত ঘটনা।

মিথ্যা তথ্য, অন্যদের কটুক্তি, বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শুরু থেকেই সমালোচিত এই সাবেক মা’র্কিন প্রেসিডেন্ট। ক্রমাগত ভুলভাল তথ্য ও মিথ্যা বলে হাসির খোরাক হয়েছেন তিনি। কিন্তু তাই বলে চার বছরে ৩০ হাজারের বেশি মিথ্যা?

ঠিকই শুনেছেন। এই সাবেক মা’র্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় থাকাকালীন গত ৪ বছরে ৩০ হাজার ৫৭৩ বার মিথ্যা বলেছেন যা মা’র্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিরল ঘটনাই বলা চলে। আ’মেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে মি’থ্যেবাদী প্রেসিডেন্টের তকমা বসেছে তার নামের পাশে। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি সকালে হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাওয়া পর্যন্ত তিনি প্রকাশ্যে ৩০ হাজার ৫৭৩ বার মিথ্যা দাবি করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগেও বিচক্ষণ হিসেবে তেমন সুখ্যাতি ছিল না ট্রা’ম্পের। নির্বাচনী প্রচারণাতেও বিভিন্ন অযৌক্তিক দাবি করতে দেখা গেছে তাকে। তাই তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে প্রথম ১০০ দিন তার প্রতিটি মন্তব্যের রেকর্ড রাখা শুরু হয়েছিল। পরে পাঠকদের আগ্রহের ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত রেকর্ড রাখা শুরু হয়।

সত্যতা যাচাই করে ট্রা’ম্পের মন্তব্যের মধ্যে থেকে সঠিক এবং ভু’য়া তথ্য আলাদা করার জন্য বিশেষ ‘ফ্যাক্ট চেক টিম’ও তৈরি করা হয়। গত বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে ট্রা’ম্প বিদায় নেওয়ার পর সেই হিসেব মেলানো শুরু হয়। তাতেই ট্রা’ম্পের সব ভুয়ো দাবির যোগফল ৩০ হাজার ৫৭৩-এ গিয়ে ঠেকেছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম বছরে প্রকাশ্যে দিনে অন্তত চারবার মিথ্যা বলেছেন ট্রা’ম্প। দ্বিতীয় বছরে তা বেড়ে হয় দৈনিক ১৬টি। তৃতীয় বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় দিনে ২২টি এবং চতুর্থ বছরে তা বেড়ে হয় দিনে ৩৯টি। হোয়াইট হাউসে প্রথম ২৭ মাসে ট্রা’ম্প ১০ হাজার মিথ্যা বলার রেকর্ড পার করে ফেলেন বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তী ১৪ মাসে মিথ্যা সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ হাজার। তারপরের পাঁচ মাসে তার বলা মিথ্যার সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

তবে জনসভা এবং নিজের টুইটার হ্যান্ডলেই ট্রা’ম্প সবচেয়ে বেশি মিথ্যা দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। তারা জানিয়েছে, অ’ভিবাসীদের দল সীমান্ত পেরিয়ে যু’ক্তরাষ্ট্রের দিকে ধেয়ে আসছেন বলে দাবি করে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসকেও বি’ভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। ২০১৯ সালে ফোনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তিনি জো বাইডেনের বি’রুদ্ধে ত’দন্তের কথা জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন ট্রা’ম্প। ওই বিষয়ে ৪ মাসে প্রায় ১ হাজার মিথ্যা বলেছেন ট্রা’ম্প।

২০২০ সালে মহামা’রির প্রকোপে পুরো দেশ যখন বিপর্যস্ত সে সময়ও ট্রা’ম্প মিথ্যা বলা থেকে বিরত হননি। বরং তা আগের তুলনায় বেড়ে যায় বলে দাবি করেছে ওই সংবাদমাধ্যম। তাদের দাবি, করো’নাভাই’রাস নিয়ে আড়াই হাজারেরও বেশি মিথ্যা দাবি করেছেন ট্রা’ম্প। অক্টোবর মাসে নিজে করো’নায় আ’ক্রান্ত হওয়ার পর ৬ দিন চুপ করে ছিলেন তিনি। তবে সব মিলিয়ে ওই মাসে ট্রা’ম্প মোট ৪ হাজার মিথ্যা দাবি করেন। অর্থাৎ সে সময়ে দিনে প্রায় ১৫০টি মিথ্যা দাবি করেন তিনি।

নির্বাচন নিয়েও ট্রা’ম্প একই কাজ করে গেছেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। তাদের দাবি, ভোট কারচুপি সংক্রান্ত কমপক্ষে ৬০টি মা’মলা আ’দালতে খারিজ হয়ে গেলেও ৩ নভেম্বর থেকে তা নিয়ে ৮শ’র বেশি মিথ্যা দাবি করেছেন তিনি। গত ৬ জানুয়ারি যে বক্তৃতায় ট্রা’ম্প সম’র্থকদের ক্যাপিটলে হা’মলা চালাতে উস্কানি দিয়েছিলেন বলে অ’ভিযোগ, সেই বক্তৃতায় তিনি ১০৭টি মিথ্যা দাবি করেছেন।

ট্রা’ম্পের সব মিথ্যা দাবির মধ্যে যেগুলো উল্লেখযোগ্য সেই তালিকাও দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। এমনকি একই মিথ্যা কমপক্ষে ৭৫০ বার তাকে আওড়াতে দেখা গেছে বলেও জানিয়েছে তারা। বিগত ১০ বছর ধরে প্রেসিডেন্টদের মন্তব্যের রেকর্ড রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

Back to top button