ইসলাম ও জীবন

ম’দিনা শরিফে টানা ৫০ বছর নামাজ পড়েছেন শায়খ মহিউদ্দিন

নামাজ হল ইস’লাম ধ’র্মের প্রধান উপাসনাকর্ম। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মু’সলিমের জন্য ফরজ। ঈ’মান বা বিশ্বা’সের পর নামাজই ইস’লামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। একজন মু’সলমান হিসেবে আমাদের প্রত্যকেরই নামাজ আদায় করা উচিৎ। তাতে আসুক যত বাধা-বিপত্তি।

নতুন খবর হচ্ছে, শায়খ মহিউদ্দিন। ১০৭ বছরে এ প্রবীণ শায়খকে আর ম’সজিদে নববিতে নামাজ পড়তে দেখা দেখা যাবে না। ম’সজিদে নববি থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে ‘কারবান ও তাজুরি’ এলাকা তার বাড়ি হলেও তিনি নিয়মিত ম’সজিদে নববিতেই পড়তেন ৫ ওয়াক্ত নামাজ। প্রতিদিন তিনি নিজ বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে ম’সজিদে নববিতে এসে নামাজ পড়তেন এবং দীর্ঘ সময় ম’সজিদে নববিতে অবস্থান করতেন। কুরআন তেলাওয়াত করতেন।

আরবি গণমাধ্যম আল-খালিজ ডটএই’র তথ্য মতে জানা যায়, শায়খ মহিউদ্দিন ছিলেন ম’দিনা নগরীর প্রবীণদের অন্যতম। ইস’লামে দ্বিতীয় খলিফা হ’জরত ওম’র ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বংশধর। ইস’লামের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও আলেম মহিউদ্দিন ইবনে আরাবি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন তাঁর পূর্বপুরুষ।

শায়খ মহিউদ্দিন স’ম্পর্কে একট টুইট বার্তায় কিছু তথ্য তুলে ধরেন ম’ক্কা-ম’দিনার ইস’লামি স্থাপনার ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞ মুহাম্ম’দ আবু মালিক। তিনি জানান, ‘প্রয়াত শায়খ মহিউদ্দিন ছিলেন অ’ত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বোল ও কোমল মনের অধিকারী। তিনি সব সময় আল্লাহর জিকির করতেন। কুরআন তেলাওয়াতের সঙ্গে তার ছিল গভীর স’ম্পর্ক।

টুইটে আরও জানান, ‘কোনো স্ত্রী’ ও পুত্র ছিল না তার। কোনো একজন দানশীল ব্যক্তির সহায়তায় তিনি জীবন পরিচালনা করতেন এবং ম’সজিদে নববির পাশে অবস্থান করতেন।

আবু মালিক বলেন, ‘আমি গত ৩০ বছর ধরে তাঁকে পিঠ বাঁকা করে ম’সজিদে নববিতে যাতায়াত করতে দেখেছি। ম’সজিদে নববিতে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আদায় করতেন তিনি। ম’দিনার পবিত্র হারাম শরিফ থেকে তাঁর বাসার দূরত্ব ছিল প্রায় তিন কিলোমিটার। ম’সজিদে নববিতে আসা-যাওয়ায় তার নিয়মিত রুটিন ছিল এমন-

‘তিনি প্রতিদিন ফজরের দুই ঘণ্টা আগে ঘর থেকে ম’সজিদে নববির উদ্দেশ্যে বের হতেন। জিকির করতে করতে তিনি ম’সজিদে নববিতে এসে ফরজ আদায় করতেন। ম’সজিদে নববির বাবুস সালাম গেট দিয়ে তিনি প্রবেশ করতেন। ফজরের নামাজ পড়ে ইশরাক পর্যন্ত ম’সজিদে নববিতে অ’পেক্ষা করতেন।

ম’দিনা নগরীর কারবান ও তাজুরি এলাকা থেকে তিনি প্রায় পায়ে হেঁটে এসে ফজর ও ইশরাক পড়ে ঘরে ফিরে যেতেন। জোহরের সময় হওয়ার আগেই আবার ম’সজিদে নববিতে এসে পৌছতেন। ইশার পড়ে তারপরই তিনি ঘরে ফিরতেন। মৃ’ত্যুর আগে এটিই ছিল তাঁর নিয়মিত রুটিন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তিনি এভাবেই ম’সজিদে নববিতে নামাজ আদায় করেছেন।

ম’দিনা নগরীর সবচেয়ে প্রবীণ ১০৭ বছর বয়সী শায়খ মহিউদ্দিন গত ১৯ জুন (শনিবার) ম’দিনায় ই’ন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ম’সজিদে নববিতেই তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে বাকিউল গারকাদ (জান্নাতুল বাকিতে)-এ দাফন করা হয়।

তার স্মৃ’তিচারণ করে আবু মালেক আরও জানান, ‘ম’দিনার হারামের মধ্যে আমি তাঁর সঙ্গে অনেকবার সাক্ষাত করেছি। মহামা’রি করো’নার কারণে ম’সজিদ নববি দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর খোলা হলে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করি। তখন আমাকে দেখে তিনি কেঁদে করে ফেলেন। তাঁর দু’চোখ বেয়ে আনন্দের অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। তখনও তার মাঝে ম’সজিদে নববি ও রওজা শরিফে যাওয়ার জন্য তার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও গভীর ভালোবাসা দেখতে পাই।’

Back to top button