বিনোদন

মাকে হাসপাতা’লে রেখে আমাকে ম্যানহোলে নামতে হয়: ফারহান

অ’ভিনেতা মুশফিক আর ফারহান। একসময় আরজে হিসেবে পরিচিতি পেলেও এখন পুরোদস্তুর অ’ভিনেতা তিনি। ধীরে ধীরে হয়ে উঠছেন নাট’কের জনপ্রিয় মুখ। নির্মাতাদের ভরসার পাত্র। তাই নির্মাতারাও আগামীর সম্ভাবনা দেখছেন তার মাঝে।

এবার ঈদে তার অ’ভিনীত অর্ধ ডজন নাট’ক প্রচার হয়েছে। তার মধ্যে ‘সুইপারম্যান’ নাট’কটি আলোচনায় রয়েছে। নাট’কটির জন্য প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। তার সমসমায়িক ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন এ অ’ভিনেতা

ঈদে আপনার অ’ভিনীত কয়টি নাট’ক প্রচার হয়েছে?
এবারের ঈদে আমা’র অ’ভিনীত পাঁচটি নাট’ক প্রচার হয়েছে । এর মধ্যে রয়েছে বান্নাহ ভাইয়ের সুইপারম্যান, কালাই ও ম্যাডম্যান, মোস্তফা কামাল রাজ ভাইয়ের স্যাক্রিফাইস ও লাইফলাইন, মাহমুদ মাহিনের ডন বি কুয়াইট। এ ছাড়া প্রায় আরও পাঁচটির মতো নাট’ক শুটিং শেষ করতে না পারায় ঈদে আসেনি। যদিও সেগুলো ঈদকে মা’থায় রেখেই শুটিং শুরু করেছিলাম। কিন্তু করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শুটিং শেষ করা সম্ভব হয়নি।

প্রচার হওয়া নাট’কের মধ্যে কোনটিতে সর্বাধিক দর্শক রেসপন্স পেয়েছেন
দেখু’ন,আমা’র অ’ভিনীত সবগুলো নাট’কই কিন্তু আমা’র কাছে সেরা। সবগুলোর গল্প ভালো দেখেই অ’ভিনয় করা। তবে এগুলোর মধ্যে দর্শকরা মনে হয় বেশি পছন্দ করেছেন ‘সুইপারম্যান’কে। বাকিগুলোও দর্শক ভালোই দেখেছেন। কিন্তু সুইপারম্যান একটু বেশি। নাট’কটি অনলাইনে আসার পর এতো প্রশংসা পাচ্ছি যা দেখে আমা’র চোখে পানি এসে পড়েছে। আমা’র প্রশংসা করে নাট’কটি নিজেদের ওয়ালে শেয়ার করছেন হাজার হাজার মানুষ। মোবাইলে, ফেসবুকের মেসেঞ্জারে শত শত মেসেজ আসছে সুইপারম্যানের প্রশংসা করে।

কাজ ভালো হলে প্রশংসা পাবেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই ভালো কাজের ধারাবাহিকতা আগামীতে থাকবে কি না…
এখন অ’ভিনয় আমা’র নে’শা-পেশা। আমা’র অ’ভিনয়ের ক্যারিয়ার বেশি দিনের না হলেও শুরু থেকেই অনেক পরিশ্রম করে আসছি। ভালো ভালো কাজের পেছনে ছুটছি, যারা ভালো নির্মাতা তাদের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছি। জানিনা কতটা কি করতে পারছি। তবে আমা’র পরিশ্রমের শতভাগ দিয়ে কাজের চেষ্টা করছি। আশা করি আগামীতেও এ ধারাবাহিকতা থাকবে। মানুষের এখন যে ভালোবাসা পাচ্ছি এই ভালোবাসার পাওয়ার ধারাবহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা জীবন বাজি রেখে করে যাবো।

‘সুইপারম্যান’ নাট’কের শুটিংয়ে আপনি নাকি ময়লা ভর্তি ম্যানহোলে নেমে পড়েছিলেন?
নাট’কটির সঙ্গে আমা’র অন্য রকম ইমোশন জ’ড়িত। অনেকটা ঘোরের মধ্যে অ’ভিনয় করেছিলাম। নাট’কটির শুটিংয়ের জন্য আমি যখন ময়লার ড্রেনে নামি আমা’র মা তখন হাসপাতা’লে ভর্তি হতে যাচ্ছিলেন। তিনি স্বাশক’ষ্টের রুগী। মানে মাকে হাসপাতা’লে রেখেই সুইপারম্যান নাট’কের শুটিং করতে হয়েছে। পরে শুটিং শেষ করে পুরো টিম মাকে দেখতে হাসপাতা’লে গিয়েছি। আর বান্না ভাইয়ের কাছে কৃতজ্ঞ আমি। তিনি আমাকে ম্যানহোলে নামিয়ে অ’ভিনয়টা আদায় করিয়ে নিয়েছেন। তবে এমন যে কোনো চরিত্রের অ’ভিনয় করার সুযোগ এলে আমি আগামীতেও চ্যালেঞ্জটা নিতে চাই।

কিন্তু শুটিংয়ে ডামি দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ম্যানহোলে নিজেই কেনো নেমেছিলেন?
তা ঠিক কাজটি ডামি দিয়ে করিয়ে নেয়া যেতো । কিন্তু আম’রা নাট’কটিতে বাস্তব ফিলটাই দিতে চেয়েছি। ম্যানহোল থেকে যখন নাট’কের দৃশ্যে আমি হাত উচু করি সেটা কোনো ডামির হাত না। আমা’র হাত। শোবিজের যারা আমাকে চিনেন তারা বুঝতে পারবেন সেটা আমা’রই হাত। দর্শকরা মিলিয়ে দেখলেও আমাকেই বুঝবেন। তাই বান্না ভাই আমাকে যখন গল্প শুনিয়ে বলে ম্যানহোলে নামা’র কথা, আমি তখন কোনো দ্বিধা করিনি। যার ফল এখন পাচ্ছি।

অনেক নির্মাতা আপনার মাঝে সম্ভাবনা দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। আপনি নিজেকে কতটা সম্ভানাময় মনে করছেন?
এটা আমি বলতে পারবো না। আমি শুধু আমা’র পরিশ্রমটা করে যাচ্ছি। আমি বিশ্বা’স করি সৎ পথে চেষ্টা করলে ব্যার্থ হয় না। আমি দৌড়াচ্ছি, ভালো কাজ করতে, দর্শকদের সামনে ভালো একজন অ’ভিনেতা হয়ে হাজির হতে, যেখানে আমা’র কমতি আছে সেটা পূর্ণ করে সামনে এগোতে। আশা করি, আমা’র এ যাত্রায় সবাইকে পাশে পাবো। সবাই পাশে থাকলে তাদের ভালোবাসায় ভালো ভালো কাজ উপহার দিতে পারবো আমি ইনশাল্লাহ।

Back to top button