আন্তর্জাতিক

যে কারণে প্রতি সপ্তাহে একদিন নববধূ সাজেন ৪ সন্তানের মা

পা’কিস্তানি নারী হিরা জিশান, বয়স বিয়াল্লিশ। তিনি বিগত ১৬ বছর ধরে শুক্রবার এলেই তিনি নববধূ হন। পা’কিস্তানের চার সন্তানের এই জননীর এমন অদ্ভুত শখে হতবাক পড়শিরাও। তবে এর পিছনে রয়েছে এক করুণ কাহিনি। খবর ডেইলি পা’কিস্তানের।

জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর আগে হিরার মা খুব অ’সুস্থ হয়ে হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেসময় অ’সুস্থ অবস্থায় মে’য়েকে নিয়ে তাঁর চিন্তার শেষ ছিল না। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মায়ের প্রবল ইচ্ছা ছিল মৃ’ত্যুর আগে মে’য়েকে নববধূর বেশে দেখে যাবেন।

তখন তড়িঘড়ি করে হিরার মাকে র’ক্ত দেওয়া হাসপাতা’লেরই এক কর্মীকে বিয়ের পাত্র ঠিক করা হয়। মায়ের ইচ্ছে মতো সেই কর্মীকেই বিয়ে করেন হিরা। হিরা জানান, খুব সাধারণ সাজে এক কাপড়েই সেসময় হাসপাতা’লে বিয়ে করেন তিনি। মায়ের অ’সুস্থতার সময় আর চার-পাঁচটা বিয়ের মতো ধুমধাম করা হয়নি। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই হিরার মায়ের মৃ’ত্যু হয়।
এতে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েছিলেন হিরা।

পরে বিয়ে কয়েক বছরে ছয় সন্তানের মধ্যে হিরা দুই সন্তানকে হারিয়ে আরও শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন। দুইটা শোক তাকে পাথর করে দেয়, এতে অবসাদ গ্রাস করে হিরাকে। সেই অবসাদ থেকে নিজেকে বের করে আনার জন্যই প্রতি শুক্রবার নববধূর বেশে নিজেকে সাজান এই পা’কিস্তানি নারী। তার স্বামী লন্ডনে থাকেন। হিরার কথায়, ‘একাকিত্ব থেকে নিজেকে বের করে আনতে এবং অবসাদ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে- নিজেকে আনন্দ দিতেই এইভাবে প্রতি শুক্রবার নববধূ সাজেন তিনি।’

এভাবে বিগত ১৬ বছর পার করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি পা’কিস্তানি গণমাধ্যম ডেইলি পা’কিস্তান এক প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করে। এছাড়া হিরার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারও প্রকাশ করে গণমাধ্যমটি, যা পরবর্তীতে ভাই’রাল হয়ে যায়। সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

Back to top button